মুদি দোকানের লাভের হিসাব
সেপ্টেম্বর 2026-এ লেখা
মুদি দোকানের লাভের হিসাব দুই ধাপে: বিক্রি থেকে যে মাল বিক্রি হলো তার কেনা দাম বাদ দিলে পাওয়া যায় মোট লাভ, আর তা থেকে দোকানের খরচ — ভাড়া, বিদ্যুৎ, কর্মচারী, পরিবহন — বাদ দিলে নিট লাভ। বিক্রির অঙ্ক যত বড়ই হোক, সেটা লাভ নয়। ছবিতে একটা দিনের আসল হিসাব: ৳1,023.50 বিক্রি, অথচ নিট লাভ ৳54। নিচে পুরো মাসের হিসাব, কোন মালে কত লাভ, আর যে দুটো জিনিস অনেকেই হিসাবের বাইরে রাখেন — নষ্ট মাল আর নিজের বেতন।
লাভের হিসাব কিভাবে করে?
বিক্রির টাকা থেকে বিক্রি হওয়া মালের কেনা দাম বাদ দিন — সেটা মোট লাভ। তারপর সেই সময়ের দোকানের খরচ বাদ দিন — সেটা নিট লাভ। উপরের দিনটা ধরে ধরে:
| ধাপ | অঙ্ক | কী বোঝায় |
|---|---|---|
| দিনের মোট বিক্রি | ৳1,023.50 | যা বিক্রি হলো, সব মিলিয়ে |
| এর মধ্যে কেনা দাম জানা | ৳963.50 | ৳60-র খুচরা বিক্রির কেনা দাম লেখা নেই, তাই বাদ |
| বিক্রি হওয়া মালের কেনা দাম | −৳859.50 | চাল, ডাল, তেল, ডিম যে দামে কেনা ছিল |
| মোট লাভ | ৳104 | মাল বেচে যা থাকল |
| খরচ (চা-নাস্তা) | −৳50 | দোকান চালাতে যা গেল |
| নিট লাভ | ৳54 | আসলে যা থাকল |
খেয়াল করুন, ৳60-র খুচরা বিক্রিটা লাভে ধরা হয়নি — ওটার কেনা দাম জানা নেই। কেনা দাম না জেনে লাভ ধরলে হয় বাড়িয়ে ধরা হয়, নয়তো কমিয়ে; দুটোই ভুল। হালখাতা তাই ওই অঙ্কটা আলাদা করে দেখায়: “এই বিক্রির ৳60 টাকার কেনা দাম লেখা নেই … এর উপর কোনো লাভ হিসাব করা হয়নি।”
কোন মালে কত লাভ — টাকায় নয়, শতকরায় দেখুন
এক কেজি চালে ৳7 লাভ, একটা ডিমে ৳2 — শুনে মনে হয় চালেই লাভ বেশি। কিন্তু বিক্রির দামের কত ভাগ থাকছে, সেটা দেখলে ছবিটা উল্টে যায়:
| মাল | কেনা | বিক্রি | প্রতি এককে লাভ | বিক্রির কত ভাগ |
|---|---|---|---|---|
| চাল মিনিকেট, কেজি | ৳68 | ৳75 | ৳7 | 9.3% |
| মসুর ডাল, কেজি | ৳105 | ৳120 | ৳15 | 12.5% |
| ডিম, একটা | ৳11 | ৳13 | ৳2 | 15.4% |
৳100-র চাল বেচলে থাকে ৳9-এর মতো, ৳100-র ডিম বেচলে ৳15-এর মতো। চাল লাগে খদ্দের টানতে, কিন্তু লাভের বড় অংশ অনেক সময় আসে এরকম ছোট ছোট বেশি-শতকরার জিনিস থেকে। হালখাতায় প্রতিটি পণ্যের পাতায় “একটিতে লাভ” লেখা থাকে — কোনটা কম, কোনটা বেশি, সেখানেই দেখে নিন।
মাসের হিসাবে যা ভুলে যাওয়া হয়
একটা দিনের হিসাব সোজা। মাসের হিসাবে এসে লাভ হারায় ছোট ছোট খরচে। ধরুন একটা মুদি দোকানের মাস এরকম গেল:
| খাত | অঙ্ক |
|---|---|
| মাসের মোট বিক্রি | ৳3,00,000 |
| বিক্রি হওয়া মালের কেনা দাম | −৳2,64,000 |
| মোট লাভ | ৳36,000 |
| দোকান ভাড়া | −৳8,000 |
| বিদ্যুৎ বিল | −৳1,500 |
| কর্মচারীর বেতন | −৳9,000 |
| পরিবহন | −৳1,200 |
| নিট লাভ | ৳16,300 |
| নষ্ট আর মাপে ঘাটতি মালের কেনা দাম | −৳1,800 |
| আসলে থাকল | ৳14,500 |
৳3 লাখ বিক্রির মাসে হাতে থাকল ৳14,500। আর এখনো একটা জিনিস বাদ আছে — আপনার নিজের সময়। আপনি সারা মাস দোকানে বসলেন; অন্য কোথাও কাজ করলে যদি ৳15,000 পেতেন, তাহলে দোকান আসলে আপনাকে দিচ্ছে তার চেয়েও কম। এটা খারাপ খবর নয়, দরকারি খবর — এই অঙ্কটা জানলেই বোঝা যায় কোথায় দাম বাড়াতে হবে বা কোন খরচ কমাতে হবে।
নষ্ট আর ঘাটতি মাল কোথায় লিখবেন?
ফেটে যাওয়া ডিম, ইঁদুরে কাটা বস্তা, মাপে ঘাটতি — এগুলো স্টক থেকে বাদ দিন “গণনা ঠিক করুন”-এ, কারণ লিখে। কিন্তু মনে রাখবেন, হালখাতার লাভের রিপোর্ট এই মালের দাম নিজে থেকে বাদ দেয় না — রিপোর্ট শুধু বিক্রি আর খরচ ধরে।
তাই বলে এটাকে খরচ হিসেবে লিখবেন না। খরচ লিখলে হাতে ক্যাশ থেকে টাকা কমে — অথচ নষ্ট মালের দিনে বাক্স থেকে কোনো টাকা যায়নি, টাকা গিয়েছিল মাল কেনার দিন। খরচে লিখলে রাতে ক্যাশ মেলাতে গিয়ে দেখবেন অঙ্ক কম, অথচ আসলে কিছুই হারায়নি।
ঠিক উপায়টা সহজ: মাসের শেষে সব ঘাটতির পরিমাণ যোগ করুন, প্রতিটার গড় কেনা দাম দিয়ে গুণ করুন, আর নিট লাভ থেকে হাতে বাদ দিন — উপরের মাসে যেমন ৳1,800। বস্তার ঘাটতি কীভাবে ধরবেন, আছে মুদি দোকানের হিসাব রাখার নিয়ম পাতায়।
কোন কেনা দাম ধরে লাভ হিসাব হয়?
যেদিন বিক্রি হলো, সেদিন মালটার কেনা দাম যা ছিল — সেটাই। ধরুন সোমবার তেলের গড় কেনা দাম ছিল ৳165, আপনি ৳185-তে বেচলেন: লিটারে ৳20 লাভ। বুধবার নতুন তেল এলো বেশি দামে, গড় দাঁড়াল ৳170। বুধবারের পরের বিক্রিতে লাভ লিটারে ৳15।
সোমবারের ৳20 কিন্তু ৳20-ই থাকে — পরে দাম বাড়লেও পুরনো বিক্রির লাভ বদলায় না। কাগজে এটা রাখা কঠিন, কারণ প্রতিটা বিক্রির পাশে তখনকার কেনা দাম লিখতে হয়; হালখাতা প্রতিটি বিক্রিতে সেটা নিজে ধরে রাখে। গড় কেনা দাম কীভাবে বদলায়, আছে দোকানের স্টক হিসাব পাতায়।
কাগজের খাতায় মাসের লাভ বের করার নিয়ম
প্রতিটা বিক্রির কেনা দাম না জানলেও মাসের মোট লাভ বের করা যায়, একটা পুরনো হিসাবের নিয়মে। মাসের শুরুতে আর শেষে তাকের মাল গুনে তার কেনা দাম বের করুন, তারপর:
| ধাপ | উদাহরণ |
|---|---|
| মাসের শুরুতে তাকের মালের কেনা দাম | ৳80,000 |
| + মাসে যত মাল কেনা হলো | ৳2,70,000 |
| − মাসের শেষে তাকের মালের কেনা দাম | ৳84,200 |
| = মাসে তাক থেকে যত মাল গেল | ৳2,65,800 |
এই ৳2,65,800-র মধ্যে বিক্রি হয়েছে ৳2,64,000-র মাল, বাকি ৳1,800 নষ্ট আর ঘাটতি — কাগজের এই নিয়মে নষ্ট মাল নিজে থেকেই ধরা পড়ে, কারণ সেটা শেষের গোনায় নেই। তাই এখানে সেটা আলাদা করে বাদ দিতে হয় না: বিক্রি ৳3,00,000 থেকে ৳2,65,800 বাদ দিলে ৳34,200, আর খরচ ৳19,700 বাদ দিলে ৳14,500 — উপরের হিসাবের সঙ্গে ঠিক একই জায়গায়। মাসের শুরু আর শেষের অঙ্ক লেখার জন্য ছাপার মতো মাসিক খাতা ফ্রি আছে — মাসিক আয় ব্যয়ের খাতা PDF।
হালখাতার লাভের রিপোর্টে কী পাবেন
হালখাতা — বাংলাদেশের দোকানদারদের জন্য দোকানের হিসাব রাখার অ্যাপ — আজ, গত 7 দিন, এই মাস, বা যেকোনো তারিখ থেকে যেকোনো তারিখ (এক বছর পর্যন্ত) ধরে মোট লাভ আর নিট লাভ দেখায়, প্রতিটি বিক্রির তখনকার কেনা দাম ধরে। ফোন বা কম্পিউটারের ব্রাউজারে চলে, এখন ফ্রি। অন্য কাজগুলো দেখুন সুবিধার পাতায়, আর মুদি দোকানে অ্যাপ দিয়ে কী কী হয়, মুদি দোকানের হিসাব পাতায়।
লাভের হিসাবে যা রিপোর্ট নিজে ধরে না, সেটাও জেনে রাখুন:
- নষ্ট বা ঘাটতি মালের দাম — মাস শেষে হাতে বাদ দিতে হয়
- দ্রুত বিক্রির লাভ — আয় ধরে, লাভ ধরে না
- আপনার নিজের সময়ের দাম
- কোন পণ্যে মাসে মোট কত লাভ হলো, সেই আলাদা তালিকা
লাভ নিয়ে যা জিজ্ঞেস করা হয়
মুদি দোকানে লাভ কত হওয়া উচিত?
সবার জন্য একটা অঙ্ক বলা যায় না — কোন মাল বেশি চলে, ভাড়া কত, কর্মচারী আছে কিনা, সব দোকানে আলাদা। চাল-তেলে শতকরা লাভ সাধারণত কম, ছোট জিনিসে বেশি। নিজের দোকানের মাসের মোট লাভ বিক্রির কত ভাগ, সেটা বের করুন, আর পরের মাসে ওই সংখ্যার সঙ্গেই মেলান।
বাকিতে বিক্রির লাভ কবে ধরা হয়?
বিক্রির দিনেই, টাকা পরে এলেও। তাই রিপোর্টে লাভ দেখালেও হাতে সেই টাকা না-ও থাকতে পারে। লাভ আর হাতে ক্যাশ আলাদা জিনিস — বাকি আদায়ের হিসাব আলাদা করে দেখুন।
নিজে দোকান থেকে টাকা নিলে সেটা কোথায় লিখব?
বাক্স থেকে সত্যিই টাকা নিয়ে গেলে খরচে লিখুন, নিজের একটা খাত বানিয়ে — নইলে রাতে ক্যাশ মিলবে না। শুধু মনে রাখবেন, তাতে রিপোর্টের নিট লাভ ওই অঙ্ক কম দেখাবে — দোকান আসলে কত লাভ করল বুঝতে নিজের নেওয়া টাকাটা আবার যোগ করে দেখুন।
এই মাসের লাভটা আসলে কত, জেনে নিন
কেনা দামসহ মাল তুলুন, প্রতিটা বিক্রি লিখুন, খরচ লিখুন — মাসের শেষে লাভ নিজে দাঁড়াবে।