হালখাতা

দোকানের স্টক হিসাব

দোকানের স্টক হিসাব মানে তিনটি জিনিস জানা: কী মাল কত এলো, কত বিক্রি হয়ে গেল, আর তাই তাকে এখন কত থাকার কথা। মাল এলে পরিমাণ আর কেনা দামসহ লিখুন, প্রতিটি বিক্রিতে স্টক কমান, আর মাঝে মাঝে তাক গুনে খাতার সঙ্গে মিলিয়ে নিন। না মিললে পার্থক্যটা কারণসহ লিখে রাখুন — নষ্ট হয়েছে, কাউকে দিয়েছেন, না গোনায় ভুল। এইটুকু নিয়ম মানলে কোন মাল আনতে হবে আর কোথায় টাকা আটকে আছে, দুটোই চোখের সামনে থাকে।

দোকানের স্টক হিসাব: পণ্যের তালিকায় আটা 25 কেজি, আলু 19 কেজি, চাল 62.5 কেজি, আর চা পাতা ও ডিমে “কম” চিহ্ন

দোকানের স্টক হিসাব কী?

দোকানের স্টক হিসাব হলো প্রতিটি মালের একটা চলমান যোগ-বিয়োগ: আগে কত ছিল, যোগ হলো কত, বিক্রি হলো কত, তাই এখন কত। এর সঙ্গে থাকে কেনা দাম — কারণ স্টক শুধু গুনতির জিনিস নয়, তাকে রাখা প্রতিটি বস্তা আর কার্টন আসলে দোকানের টাকা।

স্টকের হিসাব ঠিক থাকলে তিনটে প্রশ্নের উত্তর সবসময় জানা থাকে: কোন মাল ফুরিয়ে আসছে, কোন মাল মাসের পর মাস পড়ে আছে, আর তাকে সব মিলিয়ে কত টাকার মাল আছে।

স্টক খাতা লেখার নিয়ম

স্টক খাতা লেখার নিয়ম হলো প্রতিটি মালের জন্য আলাদা পাতা, আর প্রতিটি পাতায় একই ছয়টি ঘর। মাল এলে বা বিক্রি হলে একটা লাইন, আর শেষ ঘরে সবসময় “এখন কত আছে”।

তারিখযা হলোএলোগেলএখন আছেকেনা দাম
সোমবারআগে থেকে ছিল——10 কেজি৳64 কেজি
সোমবারডিলার থেকে এলো50 কেজি—60 কেজি৳70 কেজি
মঙ্গল–বৃহস্পতিতিন দিনের বিক্রি—41.5 কেজি18.5 কেজি—
বৃহস্পতিবার রাতেতাক গুনে পাওয়া গেল——17 কেজি—

এখানে দুটো জিনিস খেয়াল করার মতো। প্রথমত, 1.5 কেজি কম। খাতায় 18.5 কেজি থাকার কথা, তাকে পাওয়া গেল 17। মাপে ঢিলেমি, মেঝেতে পড়া, না লেখা কোনো বিক্রি — কারণ যা-ই হোক, আজ ধরা পড়ল বলেই খোঁজা যায়।

দ্বিতীয়ত, কেনা দাম এখন আর ৳64 বা ৳70 নয়। আগের 10 কেজি ৳64 দরে আর নতুন 50 কেজি ৳70 দরে মিলিয়ে গড় দাঁড়ায় ৳69 কেজি — (10 × 64 + 50 × 70) ÷ 60। লাভ হিসাব করতে হলে এই গড় দামটাই লাগে; শুধু শেষবারের দাম ধরলে লাভ ভুল আসে।

মাল এলে যা লিখতে হয়

পাঁচটা জিনিস। এর যেকোনো একটা বাদ পড়লে পরে কোনো না কোনো হিসাব মেলে না।

  • কত এলো

    কেজি, লিটার, মিটার বা পিস — মাল যেভাবে বিক্রি হয়, সেভাবেই।

  • একটির দাম

    সাপ্লায়ারকে যত দিয়েছেন। এটা না লিখলে গড় কেনার দাম বের হয় না, লাভও না।

  • কার থেকে

    একই মাল দুই ডিলারের কাছ থেকে এলে কার দাম কম, পরে সেটা এখান থেকেই বোঝা যায়।

  • টাকা দিয়েছেন, না বাকিতে

    বাকিতে নিলে সেই টাকা আপনার দেনা। না লিখলে দিনের শেষে ক্যাশ মেলে, কিন্তু দেনার কথা ভুলে যান।

  • কোন তারিখে

    মাল আজ এলো, কিন্তু লিখছেন কাল — তারিখটা আসল দিনের থাকা চাই।

হালখাতায় এটাই “স্টক এসেছে” স্ক্রিন: কয়টি এসেছে, একটির দাম, কোন তারিখে, কার থেকে, আর “পুরো টাকা দিয়েছি” নাকি “বাকিতে নিয়েছি”। বাকিতে নিলে টাকাটা নিজে সাপ্লায়ারের দেনায় যোগ হয়, আর গড় কেনার দাম নিজে হিসাব হয়।

মাল কমে গেলে কীভাবে জানবেন?

প্রতিটি মালের জন্য একটা সীমা ঠিক করে দিন — যে পরিমাণের নিচে নামলে নতুন মাল আনতে হয়। তেলের জন্য হয়তো 10 লিটার, ডিমের জন্য 60টি। স্টক ওই সীমার নিচে নামলেই জানা যায়।

হালখাতায় পণ্যের পাতায় “এর কম হলে জানাবেন” ঘরে সংখ্যাটা লিখলেই হয়। স্টক নামলে হোম স্ক্রিনে দেখায় কয়টি পণ্যের “স্টক কমে গেছে”, আর পণ্যের তালিকায় “কম” চিহ্ন বসে। 0 লিখলে সতর্কতা বন্ধ থাকে — যে মাল একবার বিক্রি হলে আর আনবেন না, তার জন্য।

হোম স্ক্রিনে সতর্কতা: 2টি পণ্যের স্টক কমে গেছে

স্টক শূন্যের নিচে নামলে কী হয়?

বিক্রি আটকায় না। খাতায় চাল 0 কেজি দেখাচ্ছে, কিন্তু খদ্দের সামনে দাঁড়িয়ে চাল কিনছেন — তাহলে খাতাটাই ভুল, খদ্দের নয়। প্রায়ই এমন হয় কারণ মাল এসেছিল কিন্তু “স্টক এসেছে” লেখা হয়নি।

তাই হালখাতা বিক্রিটা লিখে নেয়, স্টক শূন্যের নিচে যেতে দেয়, আর পণ্যের তালিকায় তার গায়ে “গুনে দেখুন” চিহ্ন বসায়। হোম স্ক্রিনে দেখায় কয়টি পণ্যের “স্টক গুনে দেখা দরকার”। আসল টাকার বিক্রি ভুল গোনার কারণে হারানো চলে না।

গুনে দেখার পর “গণনা ঠিক করুন”-এ দুটো জিনিস লিখতে হয়:

  1. আসলে কয়টি আছে। তাক গুনে যা পেলেন।
  2. কেন অমিল। নষ্ট হয়েছে, কাউকে দিয়েছেন, গণনায় ভুল — যা-ই হোক। এটা বাদ দিয়ে সেভ হয় না, কারণ কী হয়েছিল তার একমাত্র রেকর্ড এটাই।

একই মালের আলাদা মাপ থাকলে

জামা, জুতা, শাড়ির মতো মালে “স্টক 40টি” বলে লাভ নেই — 40টির মধ্যে M মাপের কয়টা, সেটাই আসল প্রশ্ন। তাই প্রতিটি মাপের আলাদা মজুদ রাখতে হয়।

হালখাতায় একটি পণ্যের অনেকগুলো মাপ রাখা যায়, প্রতিটির নিজের মজুদ। বিক্রির সময় অ্যাপ জিজ্ঞেস করে “কোন মাপ?” আর পাশে দেখায় সেই মাপের কয়টি আছে। কোনো মাপ কমে গেলে তালিকায় দেখায় ঠিক কোনটা — যেমন “কম: M, L”।

তিনটা সীমা জেনে রাখুন। মাপ কেবল পিস হিসেবে বিক্রি হওয়া জিনিসের জন্য — কেজি বা লিটারের মালের মাপ হয় না। সব মাপের দাম এক — মাপ ধরে আলাদা দাম এখনো রাখা যায় না; কোনো মাপের দাম আলাদা হলে বিক্রির সময় দামের ঘরে লিখে দিন, নয়তো সেটাকে আলাদা পণ্য হিসেবে রাখুন। আর “কম” হলে জানানোর সীমা সব মাপের জন্য একটাই — পণ্য যোগ করার সময় যা দেন।

কাগজের স্টক খাতা না অ্যাপ

কাগজে রাখতে চাইলে ছাপার মতো তৈরি স্টক খাতা ফ্রি আছে — স্টক খাতা PDF। নিচে দুটোর পার্থক্য।

কাজকাগজের খাতায়অ্যাপে
বিক্রিতে স্টক কমানো প্রতিটি বিক্রির পর আলাদা করে বিয়োগ বিক্রি লিখলেই নিজে কমে
গড় কেনার দাম প্রতিবার মাল এলে নতুন করে অঙ্ক নিজে হিসাব হয়
কোন মাল কমে গেছে সব পাতা উল্টে দেখতে হয় হোম স্ক্রিনেই দেখায়
অমিলের কারণ লেখা থাকে, যদি কেউ লেখে কারণ না লিখলে সেভ হয় না

হালখাতা — বাংলাদেশের দোকানদারদের জন্য দোকানের হিসাব রাখার অ্যাপ — বিক্রি, বাকি আর হাতে ক্যাশের সঙ্গে স্টকের হিসাবও একসাথে রাখে। এখন ফ্রি।

মাসে একবার পুরো স্টক গুনে দেখা রোজকার হিসাবেরই অংশ — দোকানের হিসাব রাখার নিয়ম পাতায় বাকি কাজগুলো আছে। মুদি দোকানের কেজি-লিটারের মালের কথা আলাদা করে আছে মুদি দোকানের হিসাব পাতায়, আর বস্তা থেকে বিক্রিতে ওজন কেন কমে, সেটা মুদি দোকানের হিসাব রাখার নিয়ম পাতায়।

স্টক নিয়ে দোকানদাররা যা জিজ্ঞেস করেন

শুরুতে কি দোকানের সব মাল গুনে তুলতে হবে?

না। যেগুলো রোজ বিক্রি হয়, আজ শুধু সেগুলো গুনে তুলুন। বাকিগুলো যেদিন নতুন মাল আসবে, সেদিন তুললেই চলে — তখন তাক এমনিতেই গোছাতে হয়।

নষ্ট বা ভাঙা মাল কীভাবে বাদ দেব?

“গণনা ঠিক করুন”-এ তাকে আসলে কয়টি আছে লিখুন, আর কারণের ঘরে লিখুন “নষ্ট হয়েছে”। কারণ না লিখলে সেভ হয় না — পরে কেউ জিজ্ঞেস করলে স্টক কেন কমল, তার একমাত্র উত্তর ওটাই।

কতদিন পরপর স্টক গুনে দেখা উচিত?

পুরো দোকান মাসে একবার। যে মালে বারবার অমিল হয় — খোলা চাল-ডাল, ভাঙার মতো জিনিস — সেগুলো সপ্তাহে একবার। সব একদিনে গুনতে হবে না; এক তাক এক দিন করেও চলে।

আজ যে মাল বেশি বিক্রি হয়, সেটা দিয়ে শুরু করুন

পাঁচ-দশটা পণ্য গুনে তুললেই স্টকের হিসাব শুরু হয়ে যায়। বাকিগুলো নতুন মাল আসার দিন।