হালখাতা

দৈনিক হিসাবের খাতা PDF

দৈনিক হিসাবের খাতা PDF এখানে ফ্রি — এক পাতায় পুরো এক মাস — আর সঙ্গে আরও তিনটি খাতা: বাকির খাতা, স্টক খাতা আর মাসিক আয় ব্যয়ের হিসাব। নাম বা ইমেইল দিতে হয় না — চাপলেই ডাউনলোড। প্রতিটি A4 কাগজে সাদা-কালোয় ছাপা বা ফটোকপির জন্য বানানো, কলমে লেখার মতো বড় ঘর, আর সংখ্যা ইংরেজি অঙ্কে। চারটিই একসাথে একটি Excel ফাইলেও আছে, যেখানে যোগ-বিয়োগ নিজে হয়। নিচে প্রতিটি খাতা কীভাবে ভরতে হয়, একটা করে ভরা উদাহরণসহ।

দৈনিক হিসাবের খাতার পাতা, মাসের 1 থেকে 31 তারিখ: সকালে ক্যাশ, নগদ বিক্রি, বাকি আদায়, খরচ, মাল কেনা / দেনা শোধ, রাতে থাকার কথা, গুনে পেলাম, কম / বেশি

হিসাব খাতা PDF — চারটি, ডাউনলোড করুন

  • দৈনিক হিসাবের খাতা

    এক পাতায় পুরো এক মাস, দিনে এক লাইন। সকালের ক্যাশ থেকে রাতের গোনা পর্যন্ত, আর কম-বেশির ঘর।

    PDF ডাউনলোড · 124 KB
  • বাকির খাতা

    এক খদ্দের এক পাতা, 27 লাইন। কী নিলেন, কত শোধ করলেন, এখন মোট কত বাকি — আর সইয়ের ঘর।

    PDF ডাউনলোড · 99 KB
  • স্টক খাতা

    এক মাল এক পাতা। কত এলো, কত গেল, এখন কত আছে, কত দামে কেনা — আর কম হলে কখন আনতে হবে।

    PDF ডাউনলোড · 101 KB
  • মাসিক আয় ব্যয়ের হিসাব

    মাসের যা এলো আর যা গেল, সপ্তাহ ধরে। শেষে হাতে ক্যাশ, বাজারে বাকি, ডিলারের দেনা আর তাকের মাল একসাথে।

    PDF ডাউনলোড · 145 KB

চারটি একসাথে, Excel-এ: একই খাতা, হলুদ ঘরে লিখলেই মোট, রাতে থাকার কথা, মোট বাকি আর মালের গড় কেনা দাম নিজে হিসাব হয়। Excel ডাউনলোড · 20 KB

দৈনিক হিসাবের খাতা কীভাবে লিখবেন?

প্রতিদিন একটা লাইন: সকালে বাক্সে কত ছিল, দিনে কত ঢুকল আর বেরোল, রাতে কত থাকার কথা, আর গুনে আসলে কত পেলেন। শেষ দুটোর পার্থক্যই কম-বেশির ঘরে যায়।

তারিখসকালে ক্যাশনগদ বিক্রিবাকি আদায়খরচমাল কেনাথাকার কথাগুনে পেলামকম / বেশি
13,2007,30006202,0007,8807,700−180
27,7005,150400350012,90012,9000

দ্বিতীয় দিনের সকালে কত লিখবেন, খেয়াল করুন: 7,700 — 7,880 নয়। আগের রাতে যা গুনে পেয়েছিলেন, সেটাই পরের সকালের ক্যাশ; যা থাকার কথা ছিল, সেটা নয়। না হলে প্রথম দিনের ৳180-র ঘাটতি দ্বিতীয় দিনেও লুকিয়ে ঢুকে পড়ে, আর মাস শেষে কোন দিনের গোলমাল, আর বোঝা যায় না।

আরেকটা নিয়ম: বাকিতে বিক্রি এই খাতায় লিখবেন না। প্রথম দিনের বিক্রি আসলে ছিল ৳8,450, কিন্তু ৳1,150 বাকিতে গেছে — তাই নগদ বিক্রির ঘরে ৳7,300। বাকিটা বাকির খাতায় যায়। পুরো দিনটা ধরে ধরে বোঝানো আছে দোকানের হিসাব রাখার নিয়ম পাতায়।

বাকির খাতার পাতায় কী লিখবেন

প্রতিটি খদ্দেরের জন্য আলাদা পাতা — এক পাতা ফটোকপি করে যত খদ্দের, তত পাতা। প্রথম লাইনে আগের খাতা থেকে যা বাকি ছিল, তারপর প্রতিটি কেনা আর প্রতিটি শোধ আলাদা লাইনে।

তারিখকী নিলেনবাকি হলোশোধ করলেনমোট বাকি
—আগের পাতা থেকে——250
2 তারিখচাল 5 কেজি, তেল 1 লিটার560—810
9 তারিখনগদ দিলেন—300510

মোট বাকির ঘরটা প্রতি লাইনে নতুন করে লিখুন, যাতে খদ্দের জিজ্ঞেস করলে এক নজরে বলা যায়। বড় অঙ্কের পাশে সই নিয়ে রাখুন। কেউ বেশি দিলে মোট বাকি মাইনাস হয় — ওটা খদ্দেরের অগ্রিম, পরের কেনা থেকে বাদ যাবে। বাকির হিসাব নিয়ে আরও আছে বাকির হিসাব খাতা পাতায়।

স্টক খাতার পাতা

এক মালের জন্য এক পাতা, ছয়টি ঘর: তারিখ, যা হলো, এলো, গেল, এখন আছে, আর কেনা দাম। মাল এলে “যা হলো” ঘরে লিখুন কার থেকে এলো। মাসে একবার তাক গুনে একটা লাইন লিখুন “গুনে পাওয়া গেল”, আর না মিললে পাশে কারণ — নষ্ট, দিয়ে দিয়েছি, না গোনায় ভুল।

পাতার উপরে “এর কম হলে আনতে হবে” ঘরে একটা সংখ্যা লিখে রাখুন — তেলের জন্য হয়তো 10 লিটার। এখন আছে ঘরে ওই সংখ্যার নিচে নামলেই মাল আনার সময়। Excel ফাইলের স্টক শিট নতুন মাল এলে গড় কেনা দামও নিজে হিসাব করে দেয়; পুরো নিয়মটা ধরে ধরে আছে দোকানের স্টক হিসাব পাতায়।

মাসিক আয় ব্যয়ের হিসাব — আর কেন এটা লাভ নয়

মাসের শেষে সপ্তাহ ধরে যা এলো আর যা গেল, খাত ধরে লিখুন: নগদ বিক্রি, বাকি আদায়, মাল কেনা, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ, কর্মচারী, যাতায়াত। নিচে দুটো মোট আর তাদের পার্থক্য।

কিন্তু ওই পার্থক্যটা লাভ নয়, আর খাতাতেই সেটা ছাপা আছে। ধরুন মাসে এলো ৳95,000, গেল ৳88,000 — পার্থক্য ৳7,000। কিন্তু ৳88,000-এর মধ্যে ৳12,000-র মাল এখনো তাকে পড়ে আছে। সেই টাকা বাক্স থেকে গেছে ঠিকই, কিন্তু মালটা আপনারই — তাই মাসটা ৳7,000-এর চেয়ে ভালো গেছে। আসল লাভ বের করতে প্রতিটি বিক্রির কেনা দাম লাগে, যা কাগজে রাখা কঠিন।

তাই পাতার শেষে আরও চারটা ঘর: মাসের শেষে হাতে ক্যাশ, খদ্দেরদের কাছে মোট বাকি, ডিলারদের কাছে মোট দেনা, আর তাকে থাকা মালের আনুমানিক দাম। এই চারটা একসাথে দেখলে দোকানের আসল অবস্থা বোঝা যায় — শুধু বাক্স দেখে নয়।

কোন খাতা দিয়ে শুরু করবেন?

চারটা একসাথে শুরু করবেন না — প্রথম সপ্তাহেই হাল ছেড়ে দেওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় ওটাই। এই ক্রমে যান:

  1. প্রথম দিন থেকে: দৈনিক খাতা আর বাকির খাতা। টাকা এই দুই জায়গা দিয়েই সবচেয়ে বেশি হারায় — বাক্সের ঘাটতি আর নাম না লেখা বাকি। আজ যাদের কাছে বাকি আছে, শুধু তাদের পাতা খুলুন।
  2. দ্বিতীয় সপ্তাহে: স্টক খাতা, শুধু বেশি চলা মালের। চাল, তেল, ডাল — দশটার বেশি পাতা দিয়ে শুরু করবেন না। বাকি মালের পাতা যেদিন নতুন মাল আসে, সেদিন।
  3. মাসের শেষ দিনে: মাসিক খাতা। দৈনিক খাতার মোট লাইন থেকে সংখ্যাগুলো তুলে নিলেই অর্ধেক কাজ হয়ে যায়।

কাগজের খাতার সীমা

কাগজের খাতা ভালো জিনিস — ইন্টারনেট লাগে না, চার্জ ফুরোয় না। যেখানে কষ্ট, সেটাও জেনে রাখুন:

  • প্রতিটি যোগ-বিয়োগ হাতে; একটা ভুল পরের সব লাইনে চলে যায়
  • বিক্রি হলে স্টক খাতায় আলাদা করে বিয়োগ করতে হয় — নিজে কমে না
  • কার কত বাকি জানতে পাতা উল্টে খুঁজতে হয়
  • খাতা হারালে বা ভিজলে হিসাবও যায়
  • প্রতিটি বিক্রির লাভ কেনা দাম ধরে বের করা প্রায় অসম্ভব

হালখাতা — বাংলাদেশের দোকানদারদের জন্য দোকানের হিসাব রাখার অ্যাপ — এই খাতাগুলোর কাজই ফোন বা কম্পিউটারের ব্রাউজারে করে: বিক্রিতে স্টক নিজে কমে, বাকি খদ্দেরের নামে জমে, লাভ কেনা দাম ধরে হিসাব হয়। এখন ফ্রি। কাগজেও রাখতে চাইলে এই পাতার খাতাগুলো ছাপিয়ে নিন।

খাতা নিয়ে যা জিজ্ঞেস করা হয়

ছাপাতে কী লাগবে?

A4 কাগজ আর সাদা-কালো প্রিন্টার, অথবা ফটোকপির দোকানে ফাইলটা দেখালেই হবে। রঙ লাগে না — খাতাগুলো শুধু কালো দাগে বানানো, যাতে সস্তা ফটোকপিতেও পরিষ্কার আসে।

ডাউনলোডের জন্য নাম বা ইমেইল দিতে হবে?

না। কোনো ফর্ম নেই, কোনো অ্যাকাউন্ট লাগে না। চাপলেই ফাইল নেমে আসে।

Excel ফাইলটা কি ফোনে খোলা যায়?

যায় — Google Sheets বা Microsoft Excel অ্যাপে খোলে। তবে ফোনের ছোট পর্দায় ঘরে ঘরে অঙ্ক লেখা কষ্টের; রোজ লেখার জন্য কম্পিউটার সুবিধার। ফোনে রোজকার হিসাবের জন্য অ্যাপ বেশি কাজের।

খাতা ছাপুন, না অ্যাপে শুরু করুন

দুটোই ফ্রি। কাগজে এক মাস রেখে দেখুন কোথায় আটকায় — তারপর সেই কাজটা অ্যাপে করে দেখুন।